পূজি সংকটে নাটোরের চামড়া ব্যাবসায়ীরা

0
168
Print Friendly, PDF & Email

নাটোর প্রতিবেদক :
ব্যাংক ঋন না পাওয়ায় পূজি সংকট, অবৈধভাবে ভারতে চামড়া পাচার, এবং ট্যানারী মালিকদের সময় মত আড়তদারদের পাওনা পরিশোধ না করায় বিপাকে পড়েছেন নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা৷ একারণে ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে আমদানী হওয়া বিপুল পরিমাণ চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন তারা৷
সরজমিনে নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকায় চামড়ার আড়ত্‍গুলো ঘুরে দেখা যায় ,চামড়া পট্টিতে এখন পুরো দমে চলছে ধেঁয়া-মোঁচা, পরিষ্কার-পরিছন্নতার কাজ৷ থেমে নেই ব্যবাসায়ী ও আড়ত্‍দারদের চামড়া কেনার প্রস্তুতি৷ চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, একসময়ে নাটোরের ঔতিহ্যবায়ী তেবাবাড়ীয়া হাটেই পশূর চামড়া কেনা বেচা হতো৷ সে হাটকে কেন্দ্র করেই দেশের উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা চামড়া নাটোরে চলে আসতো৷একারণে নাটোরের তেবারিয়া হাট সংলগ্ন নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের স্টেশন বাজার এলাকার চকবৈদ্যনাথে গড়ে উঠেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার আড়ত্‍৷ চকবৈদ্যনাথে প্রায় একশ চামড়ার আড়ত রয়েছে৷ উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল সহ প্রায় ৩০টি জেলার ছোট বড় প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী এবং ৫০ টির মত ট্যানারী মালিক প্রতিবছর নিয়মিতভাবেই নাটোরের চামড়ার আড়তে বেচা-কেনা করেন৷ আড়ত্‍দার হাবিবুল্লাহ জাজান, স’ানীয় চামড়ার পাশাপাশি চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, পবনা ও কুষ্টিয়ার চামড়ার ব্যবসায়ীরা কুরবানীর আগে ও পরে পশুর চামড়া নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নাটোরের চকবৈদ্যনাথ মোকামে আসে কাঁচা চামড়া৷ রাত দিন বিরামহীন ভাবে চলে কেনা বেচা৷ তখন এখানকার ব্যসত্ম থাকে সকলেই৷ চামড়া থেকে মাংশ ছাড়ানো, লবন লাগানো, সটিং করা, ঢাকার ট্যানারী গুলোর সাথে যোগাযোগ রৰা করা; সব মিলিয়ে বসে থাকার মত সময় তাকে না একানকার আড়তদার, বেপারি, ফড়িয়া, কুলি থেকে কর্মচারী কারোরই৷ ব্যাসায়ীক শেখ বাবলু জানান, দুই-তিন মাস আগের তুলনায় বর্তমান বাজার কম মূল্য হওয়ায় লোকসান অর্ধেক গুনতে হ”েছ তাদের৷চামড়ার আড়ত্‍দার বজলুর রহমান জানান, এ গ্রেট চামড়া গুলো কোন মতে, বিক্রয় হয় বাকী সব ট্যানারীতেই পড়ে থাকে৷ বিদেশে চামড়া টানলে ব্যাবসা ভাল হবে৷ আর ট্যানারী ব্যাবসায় পাওনা আদায়ে সরকারী নীতিমালা থাকলে টাকা তুলতে সহজ হতো৷ মৌসমী চামড়া ব্যাবসায়ী বজলার রহমান জানান, গত শবে বরাতের ভিতর গরম্নর চামড়া কিনেছিলাম তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা, বর্তমানে বাজার ষোলশ থেকে আঠারশ টাকা৷ মহিষ ছিল দুই থেকে আড়ই হাজার টাকা, বর্তমানে বারশ থেকে চৈদ্দশ টাকা, খাষি ছিল ছয়শ, এখন আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা৷ ব্যবসায় কোন মতে টিকে আছি৷ নিজেদের পূজি যা ছিল চামড়া বাজারে ধঁশ নামায়, এনখ পূজি শংকটে আছি৷ আজ কালের মধ্যে ঢাকায় যাব ট্যানারী মালিকের কাছে টাকার জন্য৷ তবে শুনতেছি এখন পর্যন্ত মহাজনরা নাকি ব্যাংক থেকে লোন পায়নি৷ এবার কপালে কি যে আছে এক মাত্র আল্লাহ পাক জানেন৷ কালাম বাদার্স ট্যানারী মালিকের প্রতিনিধি জানান, হলমার্ক কেলেংকারীতে ব্যাংক গুলো অনেক এ্যালার্ট৷ ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে আরও সময় লাগবে৷ এর মধ্যে পরিবেশ বাদীরাও, হাজারী বাগে অস্বাস্থকর ও নোংরা পরিবেশর উপর প্রতিবাদ করে বাংলাদেশ থেকে চামরা না কেনার জন্য প্রতিবেদন দিযেছে৷ তাছারা বিম্ব বাজার মন্দা, লবনর দাম দ্বিগুন, ট্যানারীতে এখন পর্যাপ্ত প্রচুর পরিমানে চামড়ার স্তুপ পড়ে আছে৷ শীতের মধ্যে লবণ কম লাগে কিন্তু এখতো গরম চামরায় লবন অনেক বেশি লাগবে, তানা হলে মাল নষ্ট হয়ে৷ সামনে খুব একটা ভাল লক্ষণ আশা করতে পারছিনা৷
নাটোরের চামড়া ব্যাবসায়ী গ্রম্নফ সমিতির সাধারন সম্পাদক সাইদার খান জানান, গত ঈদ মৌসমে নাটোরে আনুমানিক ১০ লাখ পিস গর”-মহিষ ও ছাগলের চামড়া আমদানি হয়েছিল৷ গতবার সবচেয়ে ভালোমানের গর”র চামড়ার দর ছিল ফুট প্রতি ৮৫ টাকা, মধ্যম ৭০ টাকা এবং তুলনামূলক নিম্নমানের চামড়া ফুট প্রতি ৬৫ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ৫০, ৪৮ ও ৪৫ টাকা ফুট বিক্রি হলেও গর”র চামড়ার দর এবার প্রায় অর্ধেক৷ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অন্য পেশায় নিয়োজিত এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ তাদের জমানো টাকায় ঈদের সময় চামড়া কেনেন৷ অনেক বেকার যুবকও তখন এই কর্মে সাময়িক ভাবে যুক্ত হয়৷

প্রতিবেদন সূফি সান্টু, আপলোড ১৮ অক্টোবর : সম্পাদনা আলীরাজ/ আরিফ,নিউজরুম

শেয়ার করুন