মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিহত‘র সব দায়িত্ব নিলেন হিলারি ক্লিনটন!

0
131
Print Friendly, PDF & Email

রূপসীবাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বেনগাজীর মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভকারীদের হামলায় লিবিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিহত হওয়ার ঘটনার সব দায়িত্ব ‍নিজের কাঁধে তুলে নিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটন।
এ ঘটনায় ইতি মধ্যেই বিরোধী শিবিরের তীব্র সমালোচনার শিকার আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনীত প্রার্থী মিট রমনি রাষ্ট্রদূতকে রক্ষা করতে ব্যর্থতার জন্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার অযোগ্যতাকে ‍দায়ী করেছেন। আসন্ন ৬ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বেনগাজি ইস্যুকে সামনে রেখে বিরোধীদের সর্বাত্মক আক্রমণের সামনে এখন অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছেন বারাক ওবামা।
এ পরিস্থিতিতে বেনগাজির ঘটনায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে এর সব দায় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখে যা ঘটেছে, তার সব দায় আমি নিচ্ছি।”
নিজের পেরু সফরের মধ্যেই সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিলারি বলেন, “বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা দেখভালের দায় দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্টের নয়।”এহামলার ঘটনা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বারাক ওবামার তীব্র সমালোচনা করে মিট রমনি শিবির বলছে, এর জন্য বারাক ওবামার ভ্রান্ত বিদেশনীতিই দায়ী।
বেন গাজীর হামলার ঘটনা আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটি অন্যতম প্রধান ইস্যু। নির্বাচন সামনে রেখে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের প্রথম দফায় মূলত এই ইস্যুতেই বারাক ওবামাকে ধরাশায়ী করেন রমনি। তবে মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় বিতর্ককে সামনে রেখে হিলারি ক্লিনটনের এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হিলারির দায়িত্বগ্রহণ ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনপূর্ব বর্তমান নাজুক সময়ে বারাক ওবামার ওপর জেঁকে বসা চাপ থেকে তাকে রক্ষার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
হিলারি ক্লিনটনও সাক্ষাতকারে এ ব্যাপারটি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি যে কোনো ধরণের রাজনৈতিক ব্লেম গেম (দোষারোপের রাজনীতি) এড়াতে চাই।” ওবামা ও বাইডেন দু’জনের কেউই কনসুলেটগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ওবামা বা বাইডেন নন, আমিই বিশ্বজুড়ে কর্মরত ৬০ হাজারেরও বেশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মচারীর দেখভালের দায়িত্বে আছি।” ইতিমধ্যেই মার্কিন কংগ্রেস ওই ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে পররাষ্ট্র দপ্তরের ওপর। অবশ্য ঘটনার পরপরই ওবামা ও ক্লিনটন উভয়ই এ ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অঙ্গীকার করেন, যা এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন