নওগাঁর নামাজগড় মাদ্রাসা রণক্ষেত্র, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

0
135
Print Friendly, PDF & Email

রূপসীবাংলা, নওগাঁ ১৬ অক্টোবর :
নওগাঁর নামাজগড় গাউসুল আযম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের লেলিয়ে দেয়া ছাত্র এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কারিগরী শাখার ২৪ জন শিক্ষকসহ কর্মচারীদের মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে মারত্মক আহত করেছে। আতদের মধ্যে ১৫ জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরী শাখা বাদ দেয়ার দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসাবে অধ্যক্ষ মওলানা আব্দুস সাত্তার পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় দেড় ঘন্টাকালব্যাপী এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভোকেশনাল বিভাগের কম্পিউটার অপারেশনের শিক্ষক আব্দুল বারীক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি শাখার একমাত্র কম্পিউটারটি অধ্যক্ষ তার কক্ষে নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে কারিগরি শাখার শিক্ষকরা অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের কক্ষে আলোচনার জন্য যান। এর পর দুপুর ১২টায় অধ্যক্ষ রম্নম থেকে বাহিরে গিয়ে শিক্ষকদের বের হওয়ার সবগুলো দরজা বন্ধ করে দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ক্যাডার বাহিনী ছাত্র এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এ্যাটাক করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে সন্ত্রাসীরা একযোগে কলাপসিবল গেটসহ সবগুলো দরজা ভেঙ্গে অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের ব্যক্তিগত ক্যাডার ফাজিল ক্লাশের ছাত্র ফারম্নকের নেতৃত্বে শিক্ষকদের আক্রমন করে। তারা লাঠি সোটা, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কারিগরি শাখার শিক্ষকদের এলোপাথারী মারপিট, ছুরিকাঘাত করে। এ সময় অনেক শিক্ষককে দ্বিতীয়তলার উপর থেকে নীচে ফেলে দেয়া হয়। শিক্ষকদের চিৎকারে লোকজন জমা হতে থাকলেও প্রতিষ্ঠানের মুল গেট বন্ধ থাকায় তাদের কেউ উদ্ধার করতে এগিয়ে আসতে পারেননি। সেখানে উপস্থিত পুলিশের এসআই হাবিবের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা শিক্ষকদের মারপিট অব্যাহত রাখলেও পুলিশের ভুমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় মারাত্মক আহতদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম (বাংলা), ফরহাদ হোসেন, মোস্তফা কামাল মিলন, আব্দুল গাফফার, মিজানুর রহমান, বাবর আলী, আবু সালেহ, মাহফুজুর রহমান জুয়েল, সালেহ রহমান, আরাফাত হোসেন দিনা, শহিদুল ইসলাম (কম্পিউটার) এবং রোকনুজ্জামানকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের পর্যায়ক্রমে পুলিশের ভ্যানগাড়িতে করে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এসময় বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় জেলার সাংবাদিকরা ছবি ও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের সাথে দূর্ব্যবহার করে এবং তাদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকে আমি সাংবাদিকদের ডাকিনি। আমি যখন ডাকবো তখন আপনারা আসবেন। এ সংবাদ পেয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নজরম্নল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমার-উজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এরপর বিকাল ৪টায় নওগাঁর জেলা প্রশাসক ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম আহত শিক্ষকদের দেখতে নওগাঁ সদর হাসপাতালে যান। এ ব্যাপারে নওগাঁর পুলিশ সুপার ওয়াই এম বেলালুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিউজ, মোফাজ্জল হোসেন. সম্পাদনা : আলীরাজ/ আরিফ/ সালমা, নিউজরুম

শেয়ার করুন