কারাগারে আটক আসামিদের অধিকাংশই বিচারাধীন মামলার আসামি : আইনমন্ত্রী

0
177
Print Friendly, PDF & Email

রূপসীবাংলা ১৪ অক্টোবর :
মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণেই সাধারণ মানুষ আদালত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি বলেছেন, “বিচারালয় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে মানুষ বিচারালয়মুখী হচ্ছে না।
ফলে আইনের সুযোগ লাভের অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হয়। অনেকে বলেন, একবার আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত থেকে বের হয়ে আসতে পারার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে গণতন্ত্র কখনও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না।” শনিবার মহানগর দায়রা জজ আদালতের জগন্নাথ-সোহেল স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, ঢাকা জেলা কমিটি এবং ব্র্যাক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির যৌথ আয়োজনে উপজেলা ও ইউনিয়ন আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটি গঠন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী। কারাগারে বিচারাধীন আসামির চাপ কমাতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “কারাগারে আটক আসামিদের মধ্যে ৬০-৭০ ভাগই বিচারাধীন মামলার আসামি। এটি সংশোধিত হলে ছোট ছোট ফৌজদারি অপরাধ আদালতের বাইরেও নিষ্পত্তি করা যাবে এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।” অনুষ্ঠানে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের সমালোচনা করে বলেন, “মানবাধিকার নিয়ে অনেকে কথা বললেও মানবাধিকার কমিশন আমরাই গঠন করেছি।
কিন্তু কমিশনের কাছ থেকে আমরা সেরকম আশানুরূপ ফল পাইনি। কমিশনের কাজ কোথাও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে তা খুঁজে বের করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে সুপারিশ করা। কিন্তু আমার জানা মতে, কমিশন এ পর্যন্ত কোনো সুপারিশ আমার মন্ত্রণালয়ে পাঠায়নি।” ড. মিজানুরের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তাকে দেখি সভা সেমিনার ও টেলিভিশনে শুধু বিরোধী দলের নেতাদের মতো বক্তৃতা দিয়ে বেড়াতে।” ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন- জাতীয় আইন সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, ব্র্যাকের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সার্ভিসেসের পরিচালক ড. ফস্টিনা পেরেরা। এছাড়াও মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হক, ঢাকা জেলা প্রশাসক মহিবুল হক, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ কুমার সাহা, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল হোসেন, সরকারি কৌঁসুলি ফকির দেলোয়ার হোসেন, পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার আব্দুল মান্নান, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হোসেন সভায় বক্তব্য দেন।
জেলা জজশিপের বিচারকমণ্ডলী, ঢাকা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) বিচার কাজে সম্পৃক্ত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ কুমার সাহাসহ অন্যান্য বক্তারা হতদরিদ্র মানুষের কাছে বিনামূলে আইনী সহায়তা খবর পৌঁছে দিতে বিভিন্নভাবে প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য রাখেন।
নিউজরুম

শেয়ার করুন