স্বামীর লাশটা শেষবারের মতো দেখতে চাই

0
118
Print Friendly, PDF & Email

রূপসীবাংলা মনপুরা ১৩ অক্টোবর:
শতবার নিষেধ করার পরও সে নদীতে গিয়েছে। আমি আর কিছু চাই না। মৃত স্বামীর লাশটা শেষবারের মতো দেখতে চাই। বুধবার উপকূলীয় জেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে মেঘনা নদীতে স্বামীকে হারিয়ে এভাবেই আকুতি করছিলেন ত্রিশোধ্ব ছকিনা বেগম। স্বামী ঘরে ফিরে আসবে এই আশায় তিন দিন ধরে নদীর পাড়ে বসে থেকেও স্বামীর খোঁজ পায়নি।
তিনি বলেন, বুধবার রাতের ঘূর্ণিঝড়ের পর স্বামী সেকান্দার আলীকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। তিন দিন ধরে নদীর পাড়ে বসে থেকে থেকেও তার খোঁজ পায়নি। মনপুরা ১নম্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা সেকান্দার আলী বয়স (৪০)। বুধবার দিবাগত রাতে ঘূর্ণিঘড়ে নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পার হলেও ছকিনা তার স্বামীকে খুঁজে চলেছেন। তার বিশবাস, তার সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিটিকে মেঘনা কেড়ে নিতে পারে না। বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা ছেলে মিজান। বাবাকে হারানোর পর সে চরম অনিশ্চিতায় পড়েছে। ছকিনাকে জিজ্ঞেস করতেই হু হু করে কেঁদে উঠে বলেন, আমার কলিজার টুকরাটাকে আমি কীভাবে মানুষ করবো। তিনি আরো জানান, তার নিখোঁজ স্বামী সেকান্দার পেশায় বাবুর্চির কাজ করতেন। গত দুইবছর ধরে তিনি বর্ষা মৌসুমে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যেতেন।
সেকন্দারের মহাজন মৎস্য ব্যবসায়ী ফারুক জানান, বুধবার হাজিরহাট ল্যান্ডস্টেশন ঘাটে বাজার জমে। সে আমার কাছ থেকে ৪’শ টাকা নিয়ে বাজার করে তার ছেলেকে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ট্রলারে সেকান্দারসহ ১০ জেলে ছিল। যখন প্রচন্ড বাতাস শুরু হয় অন্যরা বের হয়ে এলেও সে বের হতে পারেনি। সে সম্ভবত ইঞ্জিন রুমে ছিল। ছকিনা বলেন, আমি শতবার তাকে নিষেধ করার পরও সে আমার কথা শুনতো না। বলতো এই এলাকায় আল্লাহর রহমত আছে। আমার জীবনের কোন দিন বড় ধরনের দুর্যোগ হতে দেখিনি। আল্লাহ আমার ওপর নির্দয় হবে না।
নিউজরুম

শেয়ার করুন