বিদেশী গেরিলাদের অপতত্‍পরতায় অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা

0
177
Print Friendly, PDF & Email

রূপসীবাংলা ডেস্ক, ০৬ অক্টোবর:
বিদেশী গেরিলাদের অপতত্‍পরতায় এদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ কারণ এদেশে সক্রিয় তত্‍পরতা চালাচ্ছে প্রায় ডজন খানেক বিদেশী গেরিলা ও জঙ্গি সংগঠন৷ বিশেষ করে মিয়ানমারের সীমানত্ম ঘেঁষে পাহাড়, অরণ্য ও সাগরঘেঁষা বান্দরবান ও কঙ্বাজার জেলায় বিদেশী গেরিলারা নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে৷
কারণ এখনো মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ১৭৩ কিলোমিটার জনবিরল, দুর্গম সীমানত্ম অঞ্চল চিহি্নত করা যায়নি৷ আর এ সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে বিদেশী গেরিলা ও জঙ্গি সংগঠনগুলো৷ এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রায়ই বান্দরবান ও কঙ্বাজারের সীমানত্ম অত্রিকম করে এদেশের অভ্যনত্মরে প্রবেশ করে সন্ত্রাসী তত্‍পরতা চালাচ্ছে৷
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দুর্গম সীমানত্মে সক্রিয় বিদেশী গেরিলা গ্রুফ গুলো স্থলমাইন পেতে নিজেদের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে৷ দু’দেশের সীমনত্মরী বাহিনী একাধিকবার উদ্যগ নিয়েও অরতি প্রায় ১৭৩ কিলোমিটার সীমানা চিহি্নত করতে এখনো সফল হয়নি৷ দুর্গমতার কারণেই এেেত্র দু’দেশের সীমানত্মরী বাহিনী ব্যর্থ হচ্ছে৷ পাশাপাশি দু’দেশের উদ্যগে গেরিলাদের পুঁতে রাখা স্থলমাইন অপসারণ কার্যক্রমও নানা কারণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে৷ ফলে বিভিন্ন সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে হতাহত হচ্ছে নিরীহ কাঠুরিয়া, বুনোহাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী৷ দুর্গম ও জনবিরল ওই সীমানত্মাঞ্চলে আসত্মানা গেড়েছে মিয়ানমারের জঙ্গি ও গেরিলা বাহিনী৷ এসব সংগঠন তাদের সামরিক খরচ তুলতে সীমানত্ম অতিক্রম করে এদেশে ঢুকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, নিরীহ জুম চাষিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, খাদ্যশস্য লুটসহ নানা অপকর্ম ঘটাচ্ছে৷ এমনকি তারা গ্রামবাসীদের অস্ত্রের ও মুখে জিম্মি করে প্রত্যনত্ম এলাকায় আফিম ও হেরোইনের মতো নেশাজাতীয় দ্রব্যের মূল উত্‍স পপি চাষেও বাধ্য করছে৷
সূত্র জানায়, এদেশে বিদেশী গেরিলা ও জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত একাধিক জঙ্গি সংগঠন৷ এেেত্র দেশীয় জঙ্গি সংগঠনগুলো কাজে লাগাচ্ছে ধমর্ীয় অনুভূতি৷ বিনিময়ে বিদেশী জঙ্গি ও গেরিলাদের কাছ থেকে দেশীয় জঙ্গি গ্রুপ গু্বেলা অস্ত্র্র সাহায্য, প্রশিণ ও পরামর্শ পাচ্ছে৷ বিভিন্ন সময় টেকনাফ, উখিয়া, রামু, কঙ্বাজার ও চট্টগ্রামের কয়েকটি মাদ্রাসায় নানা সময় মিয়ানমারের গেরিলা সংগঠন আরএসও’র সমর্থনে প্রচার ও জঙ্গি প্রশিণও চলছে৷ ইতিপূর্বে ১৯৯৮ সালে আরএসও সীমানত্ম এলাকায় আরাকানিস্থান নামে একটি স্বাধীন ইসলাম রাষ্ট্রের কথাও ঘোষণা করেছিল৷ তাতে এদেশের ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কঙ্বাজার ও মিয়ানমারের সাবেক আরাকান রাজ্যেও মংডু, বচিডং ও কালাডেঙ্গ অঞ্চল নিয়ে ওই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়৷ এেেত্র রক্তয়ী যুদ্ধ বা জেহাদের মাধ্যমে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠাই ছিল এর মূলমন্ত্র্র৷ এ গেরিলা সংগঠনটির সাথে আফগানফেরত তালেবানি প্রশিণপ্রাপ্ত যোদ্ধারা রয়েছে৷ তাছাড়া বিশ্বেও বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশেও আরএসওর গোপন ঘাঁটি রয়েছে৷ আধুনিক প্রযুক্তি ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট ফোন ও ওয়্যারলেসের মাধ্যমে এ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়৷ মূলত ১৯৮০ সালে রাবেতা আল ইসলামিয়ার মদদে আরএসও নামে এ রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনের জন্ম৷ এর সাথে বাংলাদেশ ও পাকিস্থানের জামায়াতে ইসলামীরম প্রত্য যোগাসাজশ রয়েছে৷ বিশেষ করে কঙ্বাজার ও বান্দরবানে আরএসওর শিবিরগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর আধিপত্য রয়েছে৷ সংগঠনটির বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে এদেশ থেকে আফগানিস্থাান ও পাকিস্থানে নিয়মিত মুসলিম জঙ্গি সরবরাহেরও অভিযোগ রয়েছে৷
সূত্র আরো জানায়, আরএসওর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের আনত্মজর্াতিক অস্ত্র, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে৷ এর প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরেই এদেশের অবৈধ অস্ত্র্র ও মাদক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণে বনে আছে আরএসওর নেতারা৷ তাছাড়া বান্দরবান সীমানত্মে বিভিন্ন সময় মিয়ানমারের উগ্রপন্থী গেরিলা গ্রুপ একাধিক অপারেশন চালিয়ে নিজেদের অসত্মিত্বের জানান দিয়েছে৷ এর মধ্যে রোহিঙ্গা ন্যাশনালিস্ট অগর্ানাইজেশন (এআরএনও), আরাকান আর্মি (এএ), ন্যাশনাল ইউনাইটেড পার্টি অব আরাকান (নুপা), ন্যাশনাল ইউনাইটেড ফ্রন্ট অব আরাকান (নুফা), আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক আরাকান (এনডিএ), ডেমোক্রেটিক পার্টি অব আরাকান (ডিপিএ) অন্যতম৷ তাছাড়া বিদেশী গেরিলা ও জঙ্গি সংগঠনের পাশাপাশি দেশের দুর্গম পার্বত্যঞ্চলে অপতত্‍পরতা চালাচ্ছে পার্বত্য শানত্মি চুক্তিবিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)৷ এ সংগঠনটির সাথে মিয়ানমারের আরএসও নুপার প্রত্য যোগাযোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে৷ সম্প্রতি এ দুটি সংগঠনের উচপযর্ায়ের নেতাদের মধ্যে সভা হয়েছে বলেও জানা গেছে৷ তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ মানতে নারাজ৷ এদিকে এদেশের সীমানত্মরী বডর্ার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিভিন্ন সময় মিয়ানমার সীমানত্ম পেরিয়ে আসা সশস্ত্র জঙ্গি গ্রম্নপের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে৷ এসব অভিযানের কারণে সীমানত্মঞ্চল থেকে পিছু হটেছে মিয়ানমারের জঙ্গি ও গেরিলা সংগঠনগুলো৷ বর্তমানে বিজিবি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমানত্মঞ্চলে টহল জোরদার করেছে৷ পাশাপাশি বিজিবির প থেকে মিয়ানমারের সীমানত্মরী বাহিনী নাসাকাকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আরএসওসহ মিয়ানমারের উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে৷
নিউজরুম

শেয়ার করুন